পাসপোর্ট নবায়ন বা রিনিউ করার নিয়ম

আজকের আর্টিকেল এর মাধ্যমে আমরা জানবো পাসপোর্ট নবায়ন করার নিয়ম বা পাসপোর্ট রিনিউ করার নিয়ম সম্পর্কে। ই পাসপোর্ট হলো বর্তমান সময়ের সবথেকে নিরাপদ পাসপোর্ট। ই পাসপোর্ট এর মাঝে একটি ছোট মাইক্রোপ্রসেসর বা চিপ রয়েছে। এই চিপের মধ্যেই ব্যবহারকারীর সকল তথ্য বিদ্যমান। আর এই চিপটি ৩৮ টি ধাপে সিকিউর করে আমাদের তথ্যগুলো। যার কারণে অন্যন্য দেশ গুলোতে ভ্রমণে গেলেও দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার প্রয়োজন হবে না। আর এখন কমবেশি সবাই পুরোনো এম.আর.পি বা মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট রিনিউ বা নবায়ন করে ই পাসপোর্টে রুপান্তর করতে চাইছেন। এছাড়া মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট এর চেয়ে বেশি নিরাপত্তা পাওয়া যায় ই পাসপোর্টে।

এম.আর.পি থেকে ই পাসপোর্টে নবায়ন বা রিনিউ করার সূবিধা

পাসপোর্ট নবায়ন করার নিয়ম

এম.আর.পি পাসপোর্ট ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে নতুন করে পাসপোর্ট তৈরী করার চেয়ে এম.আর.পি পাসপোর্ট থেকে ই-পাসপোর্টে নবায়ন বা রিনিউ করাটা অনেক সহজ এবং সুবিধাজনক। এম.আর.পি থেকে ই পাসপোর্টে রিনিউ করার সময় প্রায় সকল তথ্য এম.আর.পি পাসপোর্ট থেকে মিলিয়ে দেখা হয়ে থাকে। যার ফলে প্রয়জনীয় তথ্যের প্রমান হিসেবে অতিরিক্ত কাগজপত্রের দরকার হবে না। তবে এক্ষেত্রে পুরনো এম.আর.পি পাসপোর্ট এর ফটোকপি জমা দিতে হবে। ক্ষেত্র বিশেষ কারণে এম.আর.পি পাসপোর্ট টি দেখাতে হতে পারে। কিন্তু সব মিলিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য ঝামেলা পোহাতে হবে না। এছাড়া ই পাসপোর্ট তৈরী করার জন্য কোনো ধরনের তথ্য সত্যায়িত করার প্রয়োজন হবে না। পুরোনো তথ্য ব্যবহার করেই সকল কাজ করা যাবে। এম.আর.পি পাসপোর্ট থেকে ই পাসপোর্টে নবায়ন বা রিনিউ করার নতুন
করে আপনাকে পুলিশ ভেরিফিকেশনের ঝামেলা পোহাতে হবে না।

ই পাসপোর্ট নবায়ন বা রিনিউ করার জন্য জরুরী কাগজপত্র

এম.আর.পি পাসপোর্ট থেকে ই পাসপোর্ট নবায়ন বা রিনিউ করতে হলে আপনাকে নির্দিষ্ট কিছু কাগজপত্র দাখিল করতে হবে। চলুন জেনে নেই কি কি কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে।
● জন্ম নিবন্ধন সনদ বা জাতীয় পরিচয়পত্র।
● পুরোনো এম.আর.পি বা ,মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট এর ফটোকপি।
● ব্যাংক জমাকৃত পাসপোর্ট ফি এর রশিদ।
● আবেদন ফরমের রঙ্গিন প্রিন্টেড ফটোকপি।

নোটঃ আবেদনকারীর বয়স যদি ২০ বছর বা এর বেশি হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই তার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিতে হবে। আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে হলে জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্ম সনদের ফটোকপি জমা দিতে হবে। আবেদনকারীর বয়স ১৮ এর নিচে হয়ে থাকলে, আবেদনকারীর জন্ম নিবন্ধন এবং আবেদনকারীর বাবা ও মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি একইসাথে জমা দিতে হবে।

আরও পড়ুন: ই পাসপোর্ট কত দিনে পাওয়া যায় ২০২২

আরও পড়ুন: পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে ২০২২

পাসপোর্ট নবায়ন করার নিয়ম বা পাসপোর্ট রিনিউ করার নিয়ম

পাসপোর্ট নবায়ন করার নিয়ম

পাসপোর্ট নবায়ন বা রিনিউ করার জন্য সকল কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয়ে গেলে এম.আর.পি থেকে ই পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে। তবে এর জন্য আপনাকে কিছু ধাপ অনুসরণ করতে হবে। চলুন দেখে নেই কি কি ধাপ অনুসরণ করতে হবে।

প্রথমে আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে যে, নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিসে ই পাসপোর্ট এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে কিনা। কেননা বাংলাদেশের বিভিন্ন বিভাগিয় এবং আঞ্চলিক অফিসগুলোতে ধিরে ধিরে ই পাসপোর্ট দেওয়ার কার্যক্রম গুলো শুরু হচ্ছে। তাই সবার আগে আপনাকে এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।

১। আবেদন ফরম পুরন করা
ই পাসপোর্ট নবায়ন বা রিনিউ করার জন্য প্রথমে আপনাকে আবেদন ফরম পুরন করতে হবে। আপনি চাইলে অফলাইনে বা অনলাইনে এই ফরম পুরন করতে পারবেন। অফলাইনে পুরন করার জন্য আপনাকে পিডিএফ ফরম টি ডাউনলোড করে পিডিএফ এডিটরের সাহায্যে এডিট করে ফরমটি পুরন করতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে যে, কোনো ভাবেই ফরমটি হাতে পুরণ করা যাবে না।

এছাড়া আপনি চাইলে অনলাইনে ফরম পুরন করতে পারবেন। এখানে আবেদনের সময় রি-ইস্যু বাটনে প্রেস করে সরাসরি ফরম পুরনের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।

২। পাসপোর্ট ফি পরিশোধ করুন
ফরম পুরণ করা হয়ে গেলে এবার ব্যাংকে গিয়ে পাসপোর্ট ফি পরিশোধ করুন। আপনি চাইলে অফলাইনে ই পাসপোর্ট এর ফি পরিশোধ করতে পারবেন। যে ব্যাংক গুলোর মাধ্যমে মাধ্যমে ই-পাসপোর্ট ফি পরিশোধ করা যাবে।
● ওয়ান ব্যাংক
● প্রিমিয়ার ব্যাংক
● ঢাকা ব্যাংক
● সোনালী ব্যাংক
● ট্রাস্ট ব্যাংক
● ব্যাংক এশিয়া
উপরের ব্যাংক গুলোর যে কোনো শাখা থেকে ই পাসপোর্ট এর ফি পরিশোধ করা যাবে। ফি জমা দেওয়ার সময় অবশ্যই আবেদন ফরমের রঙ্গিন কপি সাথে রাখতে হবে। ই পাসপোর্ট এর ফি পরিশোধ করার সবথেকে সহজ উপায় হলো অনলাইন ব্যাংকিং সিস্টেমের মাধ্যমে ফি জমা দেওয়া। এতে করে পাসপোর্ট এর ফি সয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হয় এবং সময় অ শ্রমের সাশ্রয় হয়। অনলাইনে নিচের মাধ্যমগুলিতে ফি পসিশোধ করা যাবে।
● ভিসা কার্ড
● মাস্টারকার্ড
● বিকাশ
● ডাচ বাংলা মোবাইল ব্যাংকিং
● কিউ ক্যাশ
এছাড়াও আপনারা চাইলে সহজেই সোনালী ব্যাংকের পেমেন্ত গেটওয়ের মাধ্যোমে ই পাসপোর্ট এর ফি পরিশোধ করতে পারবেন। সহজ হবে যদি আপনি অনলাইনে এই ফি পরিশোধ করতে পারেন।

৩। ছবি এবং ফিঙ্গারপ্রিন্ট
ই-পাসপর্ট এর জন্য আবেদন হয়ে গেলে একটি নির্দিষ্ট দিনে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে আপনাকে যোগাযোগ করতে হবে। এই সময় অবশ্যই সাথে করে আবেদন ফরমের রঙ্গিন প্রিন্ট, ফি প্রদানের রশিদ বা ট্রানজেকশন আইডি, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও মুলকপি বা জন্ম সনদের ফটোকপি, পুরনো এম.আর.পি পাসপোর্ট এর ফটোকপি ও মূলকপি, এবং অন্যান্য সকল প্রয়জনীয় কাগজপত্র সাথে রাখতে হবে। আপনি যদি দেশের বাইরে থেকে পাসপোর্ট নবায়ন করতে চান তাহলে ঐ দেশের দুতাবাসে যেতে হবে। দূতাবাসে যাওয়ার পর আবেদনকারীর কিছু তথ্য যাচাই করে দেখা হবে। চলুন জেনে নেই কি কি তথ্য যাচাই করে দেখা হবে।
১। আবেদনকারীর ব্যাক্তিগত তথ্য ও কাগজপত্র।
২। আবেদনকারীর ছবি।
৩। আবেদনকারীর আঙ্গুলের ছাপ এবং আইরিশের ছবি।
৪। পাসপোর্ট ফি পরিশোধের রশিদ বা ট্রানজেকশন আইডি।
তথ্যগুলো ভালোভাবে যাচাই করার পর ই-পাসপোর্ট সরবরাহ করার জন্য আবেদনকারিকে একটি রশিদ প্রদান করা হবে। রশিদ দিয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করা যাবে।

৪। পাসপোর্ট সংগ্রহ
পাসপোর্ট সংগ্রহ করার জন্য আবেদনকারীকে পাসপোর্ট অফিসে উপস্তিত হয়ে আঙ্গুলের ছাপ, পাসপোর্ট সংগ্রহের রশিদ এবং পুরাতন এম.আর.পি পাসপোর্ট টি প্রদর্শন করতে হবে।

ই পাসপোর্ট নবায়ন খরচ

ই পাসপোর্ট তৈরী করা এবং পুরাতন এম.আর.পি বা মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট রিনিউ খরচ একই।

৪৮ পাতা বিশিষ্ট পাসপোর্ট এর নবায়ন বা রিনিউ খরচ

ধরন মেয়াদ টাকার পরিমান প্রদানের সময় মেয়াদ টাকার পরিমান
নিয়মিত: – ৫ বছর – ৪,০২৫ টাকা – ১৫ কার্যদিবস – ১০ বছর – ৫,৭৫০ টাকা
জরুরী:- ৫ বছর – ৬,৩২৫ টাকা – ০৭ কার্যদিবস – ১০ বছর – ৮,০৫০ টাকা
অতি জরুরী:- ৫ বছর – ৮,৬২৫ টাকা – ০২ কার্যদিবস – ১০ বছর – ১০,৩৫০ টাকা

৬৪ পাতা বিশিষ্ট পাসপোর্ট এর নবায়ন বা রিনিউ খরচ

ধরন মেয়াদ টাকার পরিমান প্রদানের সময় মেয়াদ টাকার পরিমান
নিয়মিত:- ৫ বছর – ৬,৩২৫ টাকা – ১৫ কার্যদিবস – ১০ বছর – ৮,০৫০ টাকা
জরুরী:- ৫ বছর – ৮,৩২৫ টাকা – ০৭ কার্যদিবস – ১০ বছর – ১০,৩৫০টাকা
অতি জরুরী:- ৫ বছর – ১২,০৭৫টাকা – ০২ কার্যদিবস – ১০ বছর – ১৩,৮০০ টাকা

পাসপোর্টে বিভিন্ন ভুল হলে সংশোধন করার নিয়ম

বিভিন্ন কারণে পাসপোর্টে নানা তথ্য ভুল আসতে পারে। আবার অনেকসময় দেখা যায় যে, কারও ঠিকানা বা পেশা ইত্যাদি পরিবর্তন করতে হয়। আপনারা চাইলে এম.আর.পি পাসপোর্ট থেকে ই-পাসপোর্ট নবায়ন করার সময় সহজেই পরিবর্তন করে ফেলতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে, আপনাকে অবশ্যই সনদ পত্র বা প্রমাণ পত্র দেখাতে হবে। যেমন নাম ভূল হয়ে থাকলে তা ঠিক করার জন্য জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটকপি বা জন্মসনদ অথবা শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী সনদপত্র জমা দিতে হবে। ক্ষেত্র বিশেষ কারণে বাবা ও মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিতে হতে পারে।

আরও পড়ুন: ছেলেদের মুখের কালো দাগ দূর করার উপায়

আরও পড়ুন: তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন নেয়ার সঠিক উপায়

আরও পড়ুন: বান্দরবানের দর্শনীয় স্থান

আমাদের শেষকথা

আজকের এই আর্টিকেলের মাধম্যে আমরা আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি পাসপোর্ট নবায়ন করার নিয়ম বা পাসপোর্ট রিনিউ করার নিয়ম, প্রয়োজনীয় তথ্য, সুবিধা, খরচ, সময়কাল ইত্যাদি। আশা করি এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনি একটি পুর্ন ধারণা পেয়েছেন পাসপোর্ট নবায়ন সম্পর্কে। আমাদের এই ব্লগের মাধ্যমে আমরা প্রতিনিয়ত টেকনোলোজি, ভ্রমণ, স্বাস্থ্য টিপস, কম্পিউটার, মোবাইল, টিপস ও ট্রিক্সস সম্পর্কিত বিভিন্ন আর্টিকেল পাবলিশ করে আসছি এওং আমাদের এই ধারা অব্যাহত
থাকবে।